সারাদেশে এপর্যন্ত ২১৭ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত

সারাদেশে এপর্যন্ত ২১৭ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত

করেনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাওয়া সেই পুলিশেও এখন ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধুমাত্র ঢাকা মহানগর পুলিশেই (ডিএমপি) ১১৭ জনসহ দেশজুড়ে ২১৭ জন পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের ২১ সদস্য করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, এর মধ্যে শুধু ডিএমপিতেই দায়িত্বরত ১৬ জন।

দেশজুড়ে সব ইউনিট মিলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৭ জনে, যাদের কেউ এখনো সুস্থ হননি। আর আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ১১৭ সদস্যই ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের, এর মধ্যে চার জন সিভিল স্টাফ রয়েছেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপির পর সর্বোচ্চ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) ২৬ জন সদস্য করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জে ১৬ জন, গোপালগঞ্জে আক্রান্ত ১৮ জন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ৩ জন, বিশেষ শাখার (এসবি) ৫ জন, পুলিশের টিঅ্যান্ডআইএম’এ ১ জন, এপিবিএন-২ ময়মনসিংহে ১ জন, নৌ পুলিশে ১ জন, এন্টি টেরোরিজম ইউনিটে ১ জন, কিশোরগঞ্জে ৯ জন, গাজীপুরে ৭ জন, নরসিংদীতে ৬ জন, শেরপুরে ৩ জন, ঢাকা জেলায় ২ জন, মুন্সিগঞ্জে ১ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

গত ৮ মার্চের পর থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয় পুলিশের ৭৭৭ জন সদস্যকে। এদের মধ্যে ২৯৮ জন কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে ২৫৯ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৬৩ জন। আইসোলেশনে রয়েছেন ৪৬ জন এবং আইসোলেসন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ জন।

সবচেয়ে বেশি সদস্য আক্রান্ত হওয়া ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, যারা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিতদের প্রয়োজনে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ আক্রান্তদের আইসোলেটেড করতে ব্যারাকের বাইরে রাখা হচ্ছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের ব্যারাকের বাইরে সরকারি ভবন ও হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা সুস্থ আছেন তাদের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হচ্ছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নানা ধরনের নির্দেশনা দেন। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এছাড়া, দেশের ৫টি বিভাগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের ঢাকায় যে চিকিৎসা দেওয়া হবে, একই চিকিৎসা বিভাগীয় হাসপাতালেও দেওয়া হবে। তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেসব পুলিশ সদস্য কোয়ারেন্টিনে, আইসোলেশনে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ইউনিট প্রধানদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, শুধু আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের নয়, তাদের পরিবারেরও খোঁজখবর নিতে হবে, যেন তারা নিজেদের একা মনে না করেন।

পুলিশ সদস্যদের জন্য ভিটামিন সি, ডি এবং জিংক ট্যাবলেট কেনা হচ্ছে। শিগগিরই সেসব ট্যাবলেট বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বুধবার বিকেলে রাজারবাগে পুলিশ অডিটোরিয়ামে ডিএমপির সব পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আইজিপি। এ সময় তিনি বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।

এ সময় পুলিশ সদস্যদের আশ্বস্ত করে আইজিপি বলেন, জনগণের জন্য জীবনবাজি রেখে যারা কাজ করছেন তাদের ও তাদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ পুলিশ। রাষ্ট্রও তাদের সুরক্ষায় নানা আয়োজন রেখেছে।

ইতোমধ্যে আক্রান্ত সদস্যদের খাদ্য, চিকিৎসা, বিনোদনসহ সব প্রকার প্রয়োজনীয় আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আইজিপি। পাশাপাশি, মাঠপর্যায়ে কর্মরত সব পুলিশ সদস্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নিতে বলেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *