ভিআইপিদের জন্য কোন আলাদা হাসপাতাল হচ্ছে না- স্বাস্থমন্ত্রী

ভিআইপিদের জন্য কোন আলাদা হাসপাতাল হচ্ছে না- স্বাস্থমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, ভিআইপিদের জন্য আলাদা হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি সত্য নয়। সরকার এ রকম কোনো ধরনের ব্যবস্থা করেনি। সবার জন্য একই হাসপাতাল, একই ধরনের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মহাখালীর ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ মিলনায়তনে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ কোনো ধরনের বিবৃতি দেবেন না। না হলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। যা সরকারি নীতি বহির্ভূত।

তিনি বলেন, কোনো হাসপাতালই লকডাউন করা হয়নি। এবং হবেও না। অন্যান্য হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা বজায় আছে। থাকবেও। আমাদের যেসব হাসপাতালে সরকার ওষুধ দিয়ে থাকে, সেসব হাসপাতালে সরবরাহ এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, বেশকিছু হাসপাতালের রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করি ও তাদের সুস্থতা কামনা করি। তারাই কোভিড-১৯ এর জন্য যুদ্ধ করছেন। যেহেতু আমরা নতুন নতুন হাসপাতাল, কোভিড-১৯ হাসপাতাল তৈরি করছি, এতে বেশকিছু ডাক্তার কোয়ারেন্টিনে যেতে হচ্ছে। এ জন্য জরুরি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা আগামীতে আরও জোরদার হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় নকল পিপিই ও মাস্ক বেচা-কেনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর সঙ্গে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিক্রয়কারী ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৭ জনে। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪১৪ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার ১৮৬ জন। নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১০৮ জন।

পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তিন হাজার ৯২১টি। পরীক্ষা করা হয়েছে তিন হাজার ৪১৬টি। মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ হাজার ১৯০টি। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া সাতজনের মধ্যে পুরুষ ৫ পাঁচজন, নারী দুইজন। এদের সবাই ঢাকার।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ১২৩ জন। মোট আইসোলেশনে আছেন ৯৯৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে এসেছেন তিনি হাজার ৪২৯ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ৫৪৮ জন। মোট কোযারেন্টিনে এসেছেন তিন হাজার ৯৭৮ জন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *