করোনাকে হার মানালেন ফটিকছড়ির চিকিৎসক

করোনাকে হার মানালেন ফটিকছড়ির চিকিৎসক

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ আবদুল বাসেত হাসানের নমুনা রিপোর্ট তৃতীয়বারও নেগেটিভ এসেছে।

কাগজ-কলমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পেলেই তিনি হাসপাতাল ছাড়ছেন। কোন আশংকা না থাকলে বৃহস্পতিবারই (৩০ এপ্রিল) তাকে ছাড়পত্র দিতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ এপ্রিল ডা. বাসেতের শরীর থেকে তৃতীয়বারের মতো নমুুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে টেস্ট করা হয়। এর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

২২ এপ্রিল তার শরীরে করোনা শনাক্ত হলে তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে দ্বিতীয় দফা তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে ২৭ এপ্রিল ফলাফল আসে নেগেটিভ।

সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকার সন্তান আবদুল বাসেত ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা তরুণ চিকিৎসক। তিনিই ফটিকছড়ি-হাটহাজারী এলাকায় করোনা শনাক্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি। সন্দেহ করা হচ্ছে কোনো প্রবাসী কিংবা ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জফেরত কোন ব্যক্তি কিংবা তাদের পরিবারের কারও সংস্পর্শে আসায় তার শরীরে করোনা ছড়িয়েছে। দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার অন্তত একমাস আগ থেকে তিনি কর্মস্থলের বাইরেই যাননি।

করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ইতিপূর্বে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ২৪ এপ্রিল ঘরে ফিরেছেন বিসিএস এবং কলেজ জীবনেও তারই ব্যাচমেট বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আসিফুল হক। আসিফ ও বাসেত দুজনই ৩৭তম ব্যাচের বিসিএস ক্যাডার। বাসেতের স্ত্রীও একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। তিনি বিসিএস ৩৯তম ব্যাচের ক্যাডার।

ডা. বাসেত সিটিভিকে জানান, ‘ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট, সরকারহাট এলাকার রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে যান। দুই উপজেলাতেই বিদেশফেরত প্রবাসী আছেন। আবার এপ্রিলের ১৫ তারিখ আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফ্লু কর্নারে জ্বর-সর্দিতে ভোগা রোগী এসেছিল। যাদের কারও কারও আপনজন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জফেরত। সেদিন রাতেই আমার খারাপ লাগা শুরু। ১৬ এপ্রিল হাসপাতালে যেতে পারিনি। ১৭ তারিখ আমি নিজেই জ্বরে পড়ে গেলাম। ২১ তারিখ করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দিলাম। ২২ তারিখ ফলাফল আসলো পজেটিভ।’

প্রসঙ্গত, চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরদিন বিকেল তিনটা থেকে ফটিকছড়ি উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। রাউজান উপজেলা লকডাউন করা হয় সন্ধ্যা ৬টা থেকে। এর আগে পাশ্ববর্তী উপজেলা হাটহাজারীকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত উত্তর চট্টগ্রামে এই তিনটি উপজেলা লকডাউন অবস্থায় আছে। এছাড়া দক্ষিণে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলা লকডাউন করা হয়েছে।

২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত মোট ৭২ জন। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৬ জন। মারা গিয়েছেন ৬ জন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *